১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • অপরাধ সংবাদ
  • নাঙ্গলকোটে গৃহবধু পান্না হত্যা মামলা এবং আগুনে পুড়িয়ে কৃষক আবদুল বারেক হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী গ্রেফতার। দু‘ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আসামীদের আদালতে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

নাঙ্গলকোটে গৃহবধু পান্না হত্যা মামলা এবং আগুনে পুড়িয়ে কৃষক আবদুল বারেক হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী গ্রেফতার। দু‘ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আসামীদের আদালতে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

জুন ২০, ২০১৭

Share Button

Captureনাঙ্গলকোট প্রতিনিধি-
নাঙ্গলকোটে ১০দিনের ব্যবধানে চাঞ্চল্যকর যৌতুকের জন্য গৃহবধু পান্না বেগম হত্যা মামলা এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গোয়াল ঘরে আগুন দিয়ে কৃষক আবদুল বারেক হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামীকে পৃথক অভিযানের মাধ্যমে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গৃহবধু পান্না বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামী তার স্বামী ছগির আহমেদকে (৩২) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই (সহকারি উপ-পরিদর্শক) রতন কান্তি দে গত ১৪ জুন বুধবার স্থানীয় বাঙ্গড্ডা বাজার থেকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, গোয়াল ঘরে আগুন দিয়ে কৃষক আবদুল বারেককে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী মহিন উদ্দিন সোহেলকে (৩০) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই (সহকারি উপ-পরিদর্শক) মজিবুর রহমান এবং এস আই (সহকারি উপ-পরিদর্শক) রতন কান্তি দে গত ৫জুন চট্রগ্রাম থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহযোগিতায় এবং বন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতায় চট্রগ্রাম বন্দরের এস আর ডিপো থেকে গ্রেফতার করে।
গত ১৮মে ছগির আহমেদ পান্না বেগমকে হত্যা করে এবং গত ১৩ মার্চ কৃষক আবদুল বারেকের গোয়াল ঘরে মহিন উদ্দিন সোহেল আগুন দিলে কৃষক আবদুল বারেক অগ্নিদদ্ধ হবার এক সপ্তাহ পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মারা যান।
পান্না বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামী তার স্বামী ছগির আহমেদ গত ১৫জুন এবং কৃষক আবদুল বারেক হত্যা মামলার আসামী মাইন উদ্দিন সোহেল গত ৬ জুন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫ম আদালতে ফৌজদারি কার্য বিধির ১৬৪ধারা মোতাবেক হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলারা রায়কোট ইউনিয়নের লক্ষীপদুয়া গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ছগির আহমেদ গত ৬বছর পূর্বে পাশ্ববর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের তারাশাইল গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের মেয়ে পান্না বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ছগির আহমেদ যৌতুকের জন্য পান্না বেগমকে নির্যাতন করে আসছিলেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগেই ছিল। ঘটনার দিন গত ১৮মে দুপুর বেলা পান্না বেগমের সাথে ছগির আহমেদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছগির আহমেদ পান্না বেগমের তলপেটে লাথি মারে। এর ৪৫দিন পূর্বে পান্না বেগমের সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে ফাহাদের জন্ম হয়। পান্না বেগমের তলপেটে লাথি মারার সাথে-সাথে পান্না বেগম ঘরের মেঝেতে শুয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পান্না বেগমের দেহ নিথর হয়ে পড়ে। ছগির আহমেদ পান্না বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে পান্না বেগমের ওড়না দুই টুকরা করেন। এক টুকরা দিয়ে গলায় পেঁছিয়ে দেয় এবং অন্য টুকরা দিয়ে পান্না বেগমকে ঘরের আড়ার সাথে বেঁধে দেয়। পরে ছগির আহমেদ পালিয়ে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পান্না বেগমের মা মাসুদা বেগম বাদি হয়ে ছগির আহমেদ, তার ভাই মনির হোসেন, মাহবুবুল আলম এবং মনিরের বউ মেরীকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পান্না বেগমের দুই বছরের ছেলে আহাদ এবং দেড় মাসের শিশু সন্তান ফাহাদ রয়েছে।
এদিকে উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মহিন উদ্দিনের সাথে তার চাচা লোকমান হোসেনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন একই গ্রামের কৃষক আবদুল বারেক। আবদুল বারেক এক পর্যায়ে মহিন উদ্দিনকে বলেন, আমি থাকতে তোর চাচার সম্পত্তি দখল করতে পারবিনা। মহিন উদ্দিন একথা শুনার পর আবদুল বারেকের ক্ষতি করার জন্য উঠে-পড়ে লাগেন। গত ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে মহিন উদ্দিন আবদুল বারেকের গোয়াল ঘরে মশারির মধ্যে মোমবাতি ও ম্যাচ দিয়ে আগুন দেয়। আগুন দাউ-দাউ ঘরে জ্বললে গোয়াল ঘরের গরু ছুটাছুটি করতে থাকে। এক পর্যায়ে মহিন উদ্দিন আগুন নেভাতে যায়। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে বাহিরে চলে যায়। এসময় গৃহকর্তা আবদুল বারেক টের পেয়ে আগুন নেভাতে এসে অগ্নিদদ্ধ হন। পরে আবদুল বারেককে অগ্নিদদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হলে এক সপ্তাহ পর ১৯মার্চ আবদুল বারেক মারা যান। মহিন উদ্দিন আবদুল বারেকের জানাযায়ও অংশগ্রহণ করেন। এঘটনায় আবদুল বারেকের মেয়ে শারমিন আক্তার মিশু বাদি হয়ে আজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মহিন উদ্দিন চট্রগ্রামে গিয়ে বন্দর এলাকায় লেবারের কাজে যোগদান করেন। এর মধ্যে পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন। তারা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহযোগিতায় মহিন উদ্দিনের হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতারে তৎপর হন। পরে গত ৫জুন চট্রগ্রাম বন্দর থানার পুলিশের সহযোগিতায় বন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সর্বশেষ খবর

আজকের সর্বাধিক পঠিত

  • No results available

সর্বাধিক পঠিত

  • No results available

দিনপঞ্জি

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী

সম্পাদক ও প্রকাশক-শফিকুর রহমান চৌধুরী (এম এ)

বার্তা সম্পাদক-মাঈন উদ্দিন দুলাল

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদকীয় অফিস :জোড্ডা বাজার,নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা-৩৫৮২

বার্তা বিভাগ-০০২১৮৯২৮২৭৬৯০১,ইমো নাম্বার

Email- nangalkottimes24@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET
error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন।