২৭শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রজব, ১৪৪০ হিজরী

এয়ারপোর্টে হয়রানীর শিকার বাহরাইন যুবলীগ নেতা সুমন।

মে ৩১, ২০১৭

Share Button

গত ২৮ই মে বাহরাইন থেকে স্বল্প সময়ের ছুটিতে দেশে আসা বাহরাইন যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুমন শান্তকে ঢাকা শাহজালাল (রঃ)আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে হয়রানি করে কর্তব্যরত কাস্টমস পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কাস্টম হোম থিয়েটার সার্ভিস চার্জ সরকার নির্ধারিত ৩হাজার টাকা থাকলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার কাছে ৮ হাজার টাকা দাবি করে । দীর্ঘ সময় বাক-বিতর্কের পর ঐ কর্মকর্তা ৪হাজার টাকায় নেমে আসে । এক পর্যায়ে তিনি তার মালামাল গুলো আনবে না বলে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করে চলে আসে । তাৎক্ষণিক তিনি তার অভিযোগ গুলো ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ! নিচে তার ঐ স্ট্যাটাস টি হুবহু প্রকাশ করা হলো ।

” লিখছেন সুমন শান্ত- দুর্নীতিগ্রস্ত এই বাংলাদেশে সবই সম্ভব!! মাত্র ৩ হাজার টাকার একটি হোম থিয়েটার এর কাস্টম চার্জ নাকি বাংলা ৮ হাজার টাকা!! তাও আবার সরকারের নাম বিক্রি করে দিয়ে!! আমি একজন আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে সরকারের কাছে সহযোগীতা চাই!! এবং দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত, অযোগ্য চোর পুলিশের বিচার চাই!! আমার মত হয়রানির শিকার যাতে আর কোন প্রবাসী ভাই না হয় সেজন্য সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং বিশ্বাস রেখে বলছি মাননীয় নেত্রী আপনি একা কি করবেন? সব জায়গায় আপনার নাম, আওয়ামী লীগের নাম, সরকারের নাম বিক্রি করে চলছে দুর্নীতি। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর গতকাল স্বল্প সময়ের ছটি নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে আসি। বাংলাদেশে আসার আগে ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই তোকে কোনদিন কিছু দিতে পারিনি, আমি দেশে আসব তোর জন্য কি নিয়ে আসতাম? জবাবে ছোট ভাই বলে, “না আমার কিছুই লাগবে না। তারপর আমি ছোট ভাইকে ফের জিজ্ঞেস করি, লাগবে না মানে? কি লাগবে সেটা বল। তোর জন্য মোবাইল কিনবো নাকি ঘড়ি কিনবো? জবাবে ছোট ভাই বলেন, আমার একটা গান শোনার স্পিকার লাগবে। বাংলাদেশের গুলো চায়না কোম্পানি, আপনি আসার সময় ওখান থেকে ভালো দেখে একটা কিনে আনবেন। ছোট ভাইয়ের জন্য বাহরাইনের ১৫ দিনার ৯টাকা দিয়ে একটা হোম থিয়েটার কিনলাম। যার মূল্য বাংলাদেশি টাকার সমান ৩ হাজার ২০০ টাকা!!! যাহোক, সখ করে ছোট ভাইয়ের জন্য বিদেশ থেকে ৩হাজার টাকা দামের একটি জিনিস কিনে বাংলাদেশ আনলাম। আর এই ৩ হাজার টাকা দামের জিনিসের কাস্টম চার্জ নাকি বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত এয়ারপোর্টের চোরদের কাছে বাংলা ৮ হাজার টাকা! :'( ৮হাজার টাকা কাস্টম না দিলে ওটা রেখে দিবে। আমি বললাম স্যার, দীর্ঘদিন পর বিদেশ থেকে দেশে আসলাম। আমার ছোট ভাই সখ করেছিলো তাই তার জন্য এটা কিনে আনলাম। এখন আমি কি ৩ হাজার টাকার জিনিসের জন্য ৮ হাজার টাকা কাস্টম দিব? এটার ওজন মাত্র ৭কেজি। আমার দরকার নেই, আমি ৮ হাজার টাকা কাস্টম দিয়ে ৩হাজার টাকার পণ্য নিব না। তারপর সুর নরম করে বলে, আচ্ছা টাকা তো আর আমরা নিই না, টাকা নেয় সরকার!!! ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। অনেকক্ষণ তর্কবিতর্ক করার পর, ৮ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় নেমে গেল। এখন প্রশ্ন হলো, ৮ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা কিভাবে হল? আমি বলেছি এটা অন্যায় করা হয়েছে, আপনারা ৩হাজার টাকার একটি পণ্যের কাস্টম চাইলেন আমার কাছে ৮হাজার টাকা। একা কেন? তখন সবগুলা দালাল এসে আমাকে বললো, আমি বেশি কথা বলি। এটা সরকার খায়, সরকার তাঁদের দায়িত্ব দিয়েছে তাই, তারা মানুষকে হয়রানি করে। বিশ্বের কোথাও এমন দুর্নীতিবাজ পুলিশ কি আর আছে??? পুলিশ জনগণের বন্ধু! একজন মহিলা কাস্টম অফিসারের হাতের লেখা দেখে মনে হলো তিনি মাত্র ক্লাস ফাইভ পাস করেছেন। তার হাতের লেখার চেয়ে আমার ৯বছর বয়সী ভাগিনার হাতের লেখা অনেক সুন্দর এবং গুছানো। আমাকে একটা রিসিড দিয়েছে যে, আগামী (২১) দিনের মধ্যে যদি, আমি আমার জিনিসপত্র ৮হাজার টাকা কর পরিশোধ করে না নিয়ে আসি, তবে তারা সেটা বিক্রি করে দিবেন অথবা বাসায় নিয়ে যাবেন। তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে এটাই পরিষ্কার হল। আমি বলেছিলাম যে, ব্যাপারটা আমি পত্রপত্রিকায় জানান দিব। কিন্তু তারা আমার কথার কোন মূল্য দিলো না, উল্টো সাংবাদিক ভাইয়ের থ্রেড দিয়ে বলেছে তাদের কিছুই হবে না। পত্রপত্রিকায় লিখেও লাভ হবে না, কারন টাকা নেয় সরকার! আসলেই কি শেখ হাসিনার সরকার প্রবাসীদের সাথে এমনটি করতে পারেন? একজন আওয়ামী লীগ কর্মী হিসাবে অন্ততপক্ষে আমি কখনোই বিশ্বাস করি না। আমি আমার সখের জিনিস তাদেরকে দিয়ে চলে এসেছি। বলেছি এটা আপনারা রেখে দিন, আমার লাগবে না। রিসিড ছিড়ে ফেলে দিয়েছি। ২১ দিন পর নয়, ২১ বছরেও আমি আর আসব না। যাহোক, মনে অনেক দুঃখ, কষ্ট নিয়ে বাড়িতে এসে অশ্রুজলে ভাসছে আমার ছোট ভাইয়ের মন!”

খোঁজ নিয়ে জানা যায় শুধু সুমন শান্ত নয় প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী এয়ারপোর্টে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন । যারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বছরের পর বছর প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে অর্থ উপার্জন করে পরিবারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তাদেরকে হয়রানীর শিকার হতে হয় তা কোন সভ্য জাতি মেনে নিতে পারেনা । আমরা উত্তরের আলো পরিবার চাই সরকার এ ব্যাপারে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন 

দিনপঞ্জি

মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ডিসেম্বর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী

সম্পাদক ও প্রকাশক-শফিকুর রহমান চৌধুরী (এম এ)

বার্তা সম্পাদক-মাঈন উদ্দিন দুলাল

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদকীয় অফিস :জোড্ডা বাজার,নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা-৩৫৮২

বার্তা বিভাগ-০০২১৮৯২৮২৭৬৯০১,ইমো নাম্বার

Email- nangalkottimes24@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET
error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন।