২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

শিরোনামঃ-

আধুনিক সমাজ গঠনের রুপকার মুক্তিযোদ্ধা মন্তু মিয়া

ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭

Share Button

এইচ এম আজিজুল হক:
১৯৩৭ সালের ৭ মার্চ কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের পিপড্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৃত আলীম উদ্দিন,মা আতরের নেছা। ৮ ভাই বোনের মধ্যে মন্তু মিয়া ৬ নং। লেখাপড়া করেছেন বাতিসা হাইস্কুলে। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ১৯৫২ সালের ভাষাযুদ্ধের সময় বাতিসা হাইস্কুলে ছাত্রদের সাথে ভাষার পক্ষে ছিলেন। ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ ছয় দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুথান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আইয়ুব খানের আমলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ওনার ৮ ছেলে মেয়ে। জাফর আহমদ প্রবাসী, ইফতেখার আহমেদ ব্যবসায়ী, তোফায়েল আহমেদ ব্যবসা করে, হায়াতুন্নবী বাহরাইন প্রবাসী, মহি উদ্দিন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী, আলা উদ্দিন বাহরাইন প্রবাসী, মেয়ে হাসিনা বেগম ও নাসিমা বেগম গৃহিনী। মন্তু মিয়া ১৯৬৬ সালে পাক সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যোগ দিয়ে তিনি এই দেশের স্বপ্ন বুনেন। দেশের জন্য কাজ করেন। এই সময় সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে আসার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি স্বচোখে দেখেন। মন্তু মিয়ার সর্ম্পক ছিল ছাত্ররাজনীতি, চাকরিসহ মুক্তিযুদ্ধ সূত্রে যাদের সাথে,তারা হলেন-কাজী জহিরুল কাইয়ুম এমপি, আশরাফ চৌধুরী, এডভোকেট এতিম মোল্লা, আবুল কালাম মজুমদার এমপি, লে. কর্নেল হায়দার, কাজী জাফর আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, বিগ্রেডিয়ার জালাল আহমেদ, লে.কর্নেল খালেদ মোশাররফ প্রমুখের সাথে। ছোট ভাই রাজনীতিক এবং লালমাই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম মজুমদার এমপির লালমাই কলেজ প্রতিষ্ঠা করা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৮৮ সালে পিপড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে তাকে সহযোগিতা করেন শরীফপুর গ্রামের মাস্টার খালেকের ছেলে, পিপড্যা গ্রামের সাবেক হেডক্লাস অফিসার, মুজিবুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সী আবদুর রহমান, সাবেক মেম্বার মোতালেব হোসেন,মৃত আনা মিয়া ম্যানেজার, মৃত আনা মিয়া (বেকামলিয়া)। জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করেন আলহাজ¦ মুন্সী আবদুর রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান), আলহাজ¦ মো: আবদুল মোতালেব (সাবেক মেম্বার), আলহাজ¦ মো: গফুর মজুমদার, আসমতের নেছা, আলহাজ¦ আলী আককাছ, মো: জয়নাল আবেদীন, মো: মমতাজ উদ্দিন। বিনা বেতনে মাস্টারি করে সহযোগিতা করেন মাস্টার রফিকুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক), বীরমুক্তিযোদ্ধা কবির আহমেদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, হাফেজ আহমেদ, এছাড়াও গ্রামে বিদ্যুতহীন ও উন্নয়নহীন পিপড্যা গ্রামে সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূইয়াকে অনুরোধ করে ২০০৪ সালে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন। ১০ জানুয়ারী ২০০৪ সালে শান্তির বাজার থেকে পিপড্যা নুরানী মাদ্রাসা পর্যন্ত পাকাকরণ করা হয়। কিন্তু মন্তু মিয়ার আশাঅনুযায়ী পিপড্যা প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত কাজ না হওয়ায় দীর্ঘ ১৪ বছরে এসে এটি এখনো গ্রামবাসীকে দুর্ভোগ পোড়ায়।এখনো সঠিকও ভালভাবে পাকাকরণ না হওয়ায় নাগরিক হিসেবে মন্তু মিয়ার ক্ষোভ রয়েছে অনেক।
১৯৮৫সালে ততকালীন মাহিনী বাজারে এক কেজি খুদ কিনার সময় হতদরিদ্র নারীর গায়ে হাত তুলায় মন্তু মিয়া নিজেই শান্তির বাজার সৃষ্টি করে। তখন এরশাদ সরকারের আমল। মন্তু মিয়া আরো কয়েকজন সহযোদ্ধা নিয়ে রাতে রাতে একটি দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দোকান ছিল টং দোকান। টং দোকানটি ছিল বদিউল আলম হুজুরের বাবার ভিটায়।
৮০ বছর বয়সী মন্তু মিয়ার সময় ও দিন কাটে নামাজ পড়ে, গল্প করে। মন্তু মিয়া লেখা লেখি করতে পারেন না নয়তো সারাজীবনের অর্জিত স্বপ্ন ও জীবন কাহিনী লিখে যেতেন। তবে যেভাবে হোক নাতি নাতনীর মাধ্যমে লিখে যাবেন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
মন্তু মিয়ার এখনো মনে পড়ে, মৃত আবদুল মতিন চৌধুরী, মৃত মাস্টার কবির আহমেদ, মৃত আবুল কালাম, ভিপি সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান, ভিপি হুমায়ুন কবির, আবদুল করিম মজুমদার, জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, মাইন উদ্দিন মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারী, জীবিতদের মধ্যে আবদুল গণি,্ আবদুল কাদের, আবদুল মালেক মজুমদার, কবি এস এম আবুল বাশার, রুহুল আমিন, ইসহাক কমান্ডার, ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল প্রমুখ তার বন্ধু ও সহযোদ্ধা ।

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জি

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী

সম্পাদক ও প্রকাশক-শফিকুর রহমান চৌধুরী (এম এ)

বার্তা সম্পাদক-মাঈন উদ্দিন দুলাল

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদকীয় অফিস :জোড্ডা বাজার,নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা-৩৫৮২

বার্তা বিভাগ-০০২১৮৯২৮২৭৬৯০১,ইমো নাম্বার

Email- nangalkottimes24@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET
error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন।